চীন থেকে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট বা দুষ্প্রাপ্য খনিজ চুম্বক রফতানি মে মাসের তুলনায় সাত গুণেরও বেশি বেড়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি ও বায়ু টারবাইনের জন্য অত্যাবশ্যক এ উপকরণের সরবরাহে স্থবিরতা নেমে এসেছিল। তবে চলতি মাসে সে রফতানি ঘাটতি অনেকটাই পুনরুদ্ধার হয়েছে। এ পরিবর্তনের পেছনে প্রভাব রেখেছে চীন-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি। খবর রয়টার্স।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুষ্প্রাপ্য খনিজ চুম্বক প্রস্তুতকারক চীন থেকে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫৩ টন চুম্বক রফতানি হয়েছে, যা মে মাসের তুলনায় ৬৬০ শতাংশের বেশি। গতকাল চীনের শুল্ক কর্তৃপক্ষ এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
এর আগে চলতি মাসে দুষ্প্রাপ্য খনিজ ও চুম্বকসংক্রান্ত উত্তেজনা প্রশমনে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি সই হয়। এর অংশ হিসেবে চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া জানিয়েছে, চীনে ফের এইচটুও এআই চিপ বিক্রি করবে তারা।
বিশ্বের ৯০ শতাংশের বেশি দুষ্প্রাপ্য খনিজ চুম্বক সরবরাহ করে চীন। গত এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপকভাবে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ আরোপ করলে এর জবাবে কিছু দুষ্প্রাপ্য খনিজ পণ্যের ওপর রফতানি বিধিনিষেধ জারি করে চীন।
ফলে এপ্রিল ও মে মাসে দুষ্প্রাপ্য খনিজের রফতানিতে নাটকীয় পতন ঘটে। কারণ ওই সময় রফতানি লাইসেন্স পেতে কোম্পানিগুলোর দীর্ঘ সময় লাগছিল। এ বিলম্বে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন বাধাগ্রস্ত হয় ও চীনের বাইরের কিছু গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে আংশিক উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য করে।
মোট রফতানির দিক থেকে চীন চলতি মাসে বিশ্ববাজারে ৩ হাজার ১৮৮ টন রেয়ার আর্থ পার্মানেন্ট ম্যাগনেট রফতানি করেছে, যা মে মাসের ১ হাজার ২৩৮ টনের তুলনায় ১৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। যদিও এ পরিমাণ ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় এখনো ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ কম।
বিশ্লেষকদের মতে, চলতি মাসে রফতানিকারক লাইসেন্স পাওয়া কোম্পানির সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেশি। তাই জুলাইয়ে চুম্বক রফতানি আরো বাড়তে পারে।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) চীন মোট ২২ হাজার ৩১৯ টন দুষ্প্রাপ্য খনিজ চুম্বক রফতানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ কম।